শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
মোঃ রেজাউল করিম রয়েল, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি::
শ্রীনগরে ধর্ষনের অভিযোগে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্ষিতার পরিবার এর পক্ষ থেকে শ্রীনগর থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে থানায় অভিযোগ করায় ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর বাড়ির সামনে ধর্ষকের লোকজন মহাড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে।
স্থানীয় ও স্কুল ছাত্রীর পারিবারিক সূত্র জানায়, রাতের আধারে ঘরের জানালা ভেঙ্গে ওই স্কুল ছাত্রীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে হাত পা বেঁধে ধর্ষণ করে স্থানীয় প্রভাবশালী শান্ত। ধর্ষণের সময় ধারণকৃত ভিডিও ধর্ষক শান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর আটোচালক বাবা গত সোমবার দুপুরে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরদিন মঙ্গলবার শ্রীনগর থানা পুলিশ মেয়ের বাবাকে খবর দিয়ে থানায় এনে তার মেয়েকে হাজির করতে বলেন। দরিদ্র বাবা তার মেয়েকে থানায় আসার জন্য খবর পাঠালে ওই মেয়ে যাতে থানায় না আসতে পারে এজন্য রাস্তার বেশ কয়েকটি স্থানে ধর্ষক শান্তর লোকজন মহড়া শুরু করে। বিষয়টি পুলিশের নজরে আনলে তারা ধর্ষিতাকে থানায় আসতে নিষেধ করে জানায়, মামলা রেকর্ড করে বুধবার সকালে পুলিশী পাহাড়ায় ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ২ সপ্তাহ আগে উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের সেলামতি হাজী বাড়ির হাসেম খলিফার ছেলে বখাটে শান্ত (২৪) রাতের আধাঁরে ঘরের জানালা ভেঙ্গে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রীর (১৬) ঘরে প্রবেশ করে। ছাত্রীকে ঘরে একা পেয়ে তার হাত পা বেঁধে ধর্ষণ করে ও ধর্ষণের চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে। এ বিষয়ে মুখ খুললে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। কয়েকদিন পরে শান্ত ওই ছাত্রীকে শারীরীক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হলে তা সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। ৫ দিন আগে বিষয়টি ওই ছাত্রীর পরিবারের কানে আসলে ওই ছাত্রী তাদের কাছে প্রকৃত ঘটনা খুলে বলে। ওই ছাত্রীর পরিবার স্থানীয়ভাবে ঘটনার প্রতিবাদ করায় ধর্ষক শান্ত ক্ষিপ্ত হয়ে গত রোববার সন্ধ্যার দিকে তার বড় ভাই মাসুদের (৩০) নেতৃত্বে সহযোগী সেলামতি এলাকার আজিম (২৭), আবু বখর (২৮), ইয়ামিন (২৫), আক্তার (২২), সালাউদ্দিন (৩০), ওমর ফারুক (২২), লিটন (৩০), নাজিম (২২), রায়হান (২০), রিফাত (২৮), ইমরান (১৮), মহিন (২০), স্বাধীন (৩০), সাগর (২৪), মিরাজ (১৯), শরীফ (২২) সহ প্রায় ২৫/৩০ জনের একটি বাহিনী নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে হামলা চালানোর চেষ্টা চালায়। পরে শ্রীনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তারা পালিয়ে যায়।
ধর্ষণের পর উল্টো মহড়া প্রদর্শনের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, শ্রীনগরে এমন ঘটনা এর আগে ঘটেছে কিনা আমাদের জানা নেই। হয়তো মেয়েটির পরিবার গরীব বলে ধর্ষকের লোকজন এমন সাহস দেখাচ্ছে।
এ ব্যাপারে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম ভূঞা বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামীদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।